October 8, 2026, 12:04 am

করোনায় বিয়ের কারণে পড়াশোনা ছেড়েছে ৮ শতাংশ নারী

করোনায় বিয়ের কারণে পড়াশোনা ছেড়েছে ৮ শতাংশ নারী

অতিমারির কারণে প্রযুক্তিগত বৈষম্য, শিক্ষা ও দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ বেড়েছে। নারীদের মধ্যে ৮ শতাংশ বিয়ের কারণে পড়াশোনা ছেড়েছে। আর পরিবারকে সহায়তা করা করার জন্য ছেড়েছে ১৩ শতাংশ। পুরুষদের মধ্যে এটি ৩২ শতাংশ। দুই তৃতীয়াংশ ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।
রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ‘করোনার প্রভাবে এসডিজি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ: স্বাস্থ্য ও শিক্ষা’ অনলাইন সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে আর্থিক দুরবস্থায় পড়া পরিবারের ২৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এই শিক্ষার্থীরা পরিবারের সহায়তা করতে গিয়ে পড়াশোনা ছেড়েছে। কারণ এসব পরিবারে আয় কমে গেছে ৮০ শতাংশোর মতো। গ্রাম, দূরবর্তী অঞ্চলের পরিবার এবং গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অনলাইনে ক্লাস কতটা নিশ্চিত করা গেছে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে বলে দাবি করেছেন ড. মাহফুজ কবীর।
সংলাপে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, সামাজিক সুরক্ষা ভাতা বঞ্চিত ৪৬ শতাংশ মানুষ। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় অনেকে ভাতা পাচ্ছেন, যাদের পাওয়ার দরকার নাই। তারা ধনি। তবু তারাও পেয়ে যাচ্ছেন। আর যাদের পেতে হবে, তাদের অনেকেই বাদ পড়ছে, প্রায় ৪৬ শতাংশ।
তিনি বলেন, ‘তার মানে সামাজিক সূরক্ষা কর্মসূচিতে বড়ধরনের অপচয় আছে। আমি সেটা অস্বীকার করবো না। কারণ এটা একটা গবেষণার ফলাফল থেকে প্রাপ্ত। আমরা চাইবো, ২০২৫ সালের সব দারিদ্র্য সামাজিক সুরক্ষার কোনো না কোনো কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হোক।’

অনলাইন সংলাপটি জার্মানির ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ডের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) ও ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের (ডিজেএফবি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে শামসুল আলম বলেন, ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আমরা শিক্ষা ব্যয় বাড়ানোর কথা বলছি। শিক্ষা ব্যয় ৪ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলেছি। যেটি বর্তমানে ২ দশমিক ৬ শতাংশে আছে। আসলে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, শিক্ষা ব্যয় ৬ শতাংশে যাওয়া উচিত।’
শামসুল আলম বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবায়, দারিদ্র্যে, শিক্ষা ক্ষেত্রে অঞ্চল বৈষম্য আছে। সেজন্য দেখবেন নারাণগঞ্জে ৩ শতাংশ দারিদ্র্য, অথচ রংপুরে ৭১ শতাংশ। এর জন্য আমরা অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অনেকগুলো পদক্ষেপ রেখেছি। আপনারা নজরদারি করবেন, সেই প্রস্তাবগুলো কতটা বাজেটে প্রতিফলিত হচ্ছে।’ অনুষ্ঠানে উত্থাপিত মূল প্রবন্ধের তথ্য তুলে ধরে শামসুল আলম বলেন, ‘এখানে বলা হয়েছে, প্রাথমিকের মাত্র ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী অঙ্ক করার বিষয়ে পারদর্শিতা আছে। বাংলার ক্ষেত্রেও হয়তো তাই হবে। এগুলো কাম্য নয়। এরকম অনেকগুলো ভিতরের দৃষ্টি এসেছে এই আলাপ-আলোচনায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষা কমিশনে বলা হয়েছিল, সকলের জন্য সর্বজনীন শিক্ষা। আমাদের অনেক বিজয়, সাফল্য, কৃতিত্ব আছে; কিন্তু শিক্ষার ক্ষেত্রে সার্বজনীনতা আমরা এখনও অর্জন করতে পারি নাই। জনগণকে শিক্ষার আওতায় আনতে হবে। প্রাথমিকেই প্রায় ১৮ -১৯ ভাগ শিশু ঝড়ে পড়ছে। এটা তো মানবসম্পদের বড় অপচয়। কতো প্রতিভা হয়তো ঝড়ে যাচ্ছে। আমরা জানতে পারছি না। যদি শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারতাম, তাদের কেউতো বিজ্ঞানী হতে পারতো, কেউ কবি হতে পারতো। শিক্ষা না পেলে তো তারা গাড়ির হেলপার হয়েই থাকবে। এই অপচয় অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের (এএসডি) নির্বাহী পরিচালক জামিল এইচ চৌধুরী বলেন, ‘করোনায় একটা বড় ক্ষতি হলো, অনেক শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়েছে। অনেকে কাজে চলে গেছে, অনেকের বাল্য বিয়ে হয়ে গেছে। তাদেরকে কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়? আবার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অনেক জায়গায় বড় বড় প্রণোদনা দিয়েছেন। বেসরকারিভাবে যারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতেন, বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলোর জন্য প্রণোদনার কথা শুনি নাই। তাদেরকে কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়? কারণ তারা তো সমাজকেই সেবা দিচ্ছিলেন। মানুষ উপকৃত হচ্ছিল। কতগুলো বন্দ হয়েছে তা নিয়ে জরিপ করার প্রয়োজন এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এগুলো করা দরকার বাজেটের আগেই।’

মূল প্রবেন্ধর ওপর আরও আলোচনা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক, রোগতত্ত্ববিদ ও মানিকগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত শর্মী, উন্নয়ন কর্মী তাহমিনা শিল্পী, প্রতীক যুব সংসদের নির্বাহী প্রধান সোহানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেভেলপমেন্ট জার্নালিজম ফোরাম অব বাংলাদেশের (ডিজেএফবি) ও ফাইনানসিয়াল এক্সপ্রেসের বিশেষ প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির। আর সঞ্চালনা করেন যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা।

 

বিজনেস নিউজ/ এসআর

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com